মায়ের আর্তনাদ ১ (Mayer Artonad 1)
A
0
Altın Yaprak
জানিস, আজকাল আর ঘুম হয় না।
আমাকে
ভালো একটা ওষুধ পাঠাবি খোকা?
স্মৃতি স্মৃতি আর স্মৃতি।
কেবল স্মৃতি রানীর উন্মত্ত উন্মাদনা
স্মৃতির উল্লাস আমায় নিয়ে যায়
কখনো ঘোষ পুকুরের তালবাগানে
কখনো মধুপুর রেল স্টেশনে।
আজ দশ বছর হলো
তোর বাবা চলে গেলো।
মনে পড়ে
তোর বাবার দুর্বল গলার সেই খুক-খুকে কাশি?
শেষে কাশতে কাশতে
নীল হয়ে যাওয়া তার ফ্যাকাসে মুখটা?
যন্ত্রণায় শিউড়ে উঠি খোকা
আজও যন্ত্রণায় শিউড়ে উঠি।
যন্ত্রণা! যন্ত্রণা আর যন্ত্রণা।
মৃত্যুকাতর মানুষটার কি সাংঘাতিক যন্ত্রণা!
তোর বাবা বলতো-
"মরণেই তো চির শান্তি জাহ্নবী!
তবুও কেন বেঁচে আছি জানো?
আমার খোকা বড় হবে। মানুষ হবে।
তাই একটু দেখতে! "
আর পারি না খোকা
কেবল তোদেরকে মনে পড়ে।
মনে পড়ে
ছোট্ট তিতাসের আধো আধো কথা
বাবাই পল্টুর অপটু হাতে লেখা।
আজ ওরা
খুব বড় হয়ে গেছে, তাই না?
আমাকে ওদের
একবারও কি মনে পড়ে না খোকা?
ওদেরকে বলিস
"তোদের ঠাম্মার কোলটা
এক্কেবারে ফঙফঙেফাঁকা।"
বড় শূন্য লাগে রে।
দেহ মন হৃদয়
সবই বড় শূন্য অসাড় লাগে।
জানিস? লাঠি ঠুকে ঠুকে
আজ পুরানো বাড়িতে গেছিলাম।
ঘরে ঢুকতেই
বুকটা আমার দড়াম করে বেজে উঠলো।
এতো বড় বাড়ি
অথচ আজ কাক পক্ষী নেই।
তুলসী তলার দালানে
হাঁ করে বসে রইলাম।
সেই দালানটা রে-
যেখানে জন্মদিনে
তোকে পায়েস খাওয়াতাম।
আজ জন্ম দিনে তুই কি করলি খোকা?
আমার কথা ছেড়ে দে।
তোকে ভেবে ভেবেই তো কাটিয়ে দিলাম দিনটা।
ইচ্ছে হলো, আজ তোকে
পায়েস বানিয়ে নিজের হাতে খাওয়াই!
মরণ দশা এই বৃদ্ধাশ্রমের!
নামেই শান্তিনীড়!
অথচ শান্তির "শ-ও" নেই এখানে।
আজ আমি কিচ্ছু চাই না খোকা।
কেবল তোকে একটু দেখতে চাই।
একটু শান্তি চাই। একটু সন্তান স্পর্শ চাই।
মরণকালে যা চাই, তা তুই দিবি না?
ইচ্ছে তো করে
তোর থেকে মৃত্যু চাই!
কিন্তু জানি, তাতে তোর কষ্ট হবে।
তোর কষ্ট হবে
এমন কিছু কি চাইতে পারি খোকা?
আমাকে তুই মুক্তি দে।
এই শূণ্যতা থেকে মুক্তি দে।
পুরানো স্মৃতির অত্যাচার থেকে মুক্তি দে।
মায়ের ভালোবাসা থেকে মুক্তি দে।
তোদের বিদেশ থেকে, এমন এক ওষুধ পাঠা-
যা আমার আনন্দ মুছে দেবে।
দুঃখ মুছে দেবে। গ্লানি মুছে দেবে।
আমার পরিত্যক্ত জীবনের সব স্মৃতি মুছে দেবে।
নির্জীব জড় হবো সেও ভালো
কিন্তু শান্তি তো একটু পাবো।
তোদের আধুনিক জ্ঞান বিজ্ঞান
দর্শন আর এথিক্স কি বলে খোকা?
© অরুণ মাজী
Painting by Paulo Frade
Bu şiiri puanla
Henüz puan verilmemiş