নরের তৃষ্ণা, নারীর মধুভান্ড
A
0
Altın Yaprak
চাও তো- বুকে বজ্র হেনে দাও
খাওয়ারে বিষ মিশিয়ে দাও
হৃৎপিণ্ডে, ফণীমনসার কাঁটা গেঁথে দাও;
সহ্য করতে পারি
সবই তো সহ্য করতে পারি;
কিন্তু পারি না সহ্য করতে
কেবল রমণীর অবহেলা
তোমার অবহেলা।
ফুল কিসের জন্য হে মালবিকা
সুগন্ধ কিসের জন্য?
ধেই ধেই করে, অলি যদি
ফুলের বুকে একটু নাই বা নাচলো
তবে তোমার পাপড়ি কিসের জন্য
তোমার সুগন্ধ কিসের জন্য?
একদিন
ঝরে যাবে ফুল
মরে যাবে সুগন্ধ।
কালের স্রোতে কোথায় হারিয়ে যাবে
উচ্ছ্বাসী অলির উন্মত্ত উচ্ছ্বাস!
হয়তো একদিন
রবে না নদী, রবে না পৃথিবী
রবে না কোন আকাশ বাতাস!
শুধু গান রয়ে যাবে, শুধু স্মৃতি রয়ে যাবে
শুধু বুকের ব্যথা রয়ে যাবে।
নশ্বর পৃথিবীতে কেউ, কিছুই অবিনশ্বর নয়
রয়ে যাওয়া স্মৃতি, সেও- সেও উবে যাবে।
কিসের তরে জন্ম তবে, হে নারী
কিসের তরে জন্ম তোমার?
বুকে মধু নিয়ে
মিশে যাবে তুমি, কালের অনন্ত স্রোতে
হৃৎস্পন্দনে সঙ্গীত নিয়ে
ঝরে যাবে তুমি- অতল গিরিখাতে।
জীবন-মরণের মাঝে
কেউ নেই, কিছুই নেই
আছে শুধু তোমার বুকের অফুরন্ত মধু
আর আমার বুকের অনন্ত পিপাসা।
মধুভারে ক্লান্ত তুমি
তৃষ্ণাভারে আর্ত আমি।
নারী যদি নয় নরের তরে
তবে নারী কিসের তরে
কার তরে?
পুরুষ সঙ্গ বিনা 'অম্বা'
সেও হিংস্র রাক্ষসী হয়ে যায়।
ভীষ্মকে আপন শয্যায় সে পায় নি বলে
ভীষ্মের শরশয্যার সে কারন হয়ে যায়।
মধুভার বড় যন্ত্রণা নারী
তোমার মধুভার বড় যন্ত্রণা।
আজ এসেছি তোমার দ্বারে
তুমি ফিরায়ো না আমারে।
দাও গো নারী, দাও
দাও তোমার মধুভান্ড খানি।
দিও না, দিও না মোরে অবহেলা
হে পুষ্পরাণী, হে সুন্দরী রমণী।
© অরুণ মাজী
Painting: Hugues Merle
Bu şiiri puanla
Henüz puan verilmemiş