অমল আর প্রীতির রোমান্স (অরুণ মাজীর উপন্যাসের অংশ ৪)
A
0
Altın Yaprak
আমি উত্তর দেওয়ার আগেই দেখলাম, অমল মুখার্জী দৌড়ে আমার দিকে আসছেন। হাঁফাতে হাঁফাতে ছুটে আমার কাছে এসে, ব্লেজারের পকেট থেকে ছোট্ট একটা প্যাকেট বের করে সেটা আমার হাতে ধরিয়ে দিয়ে বললেন-
"Please, open this when you are back home"
#######
"এতো আনমনা কেন প্রীতি? " মা জিজ্ঞেস করলো আমায়।
কোন উত্তর না করে মৃদু একটু হাসলাম আমি।
মা বললো-
"তোকে খুশি খুশিও লাগছে আজ। আজ আমার সাথে একবারও লড়াই করলি না, ব্যাপার কি, প্রীতি? "
আবার হাসলাম আমি। বললাম-
জানো মা...?
"কি? "
থাক। পরে বলবো।
"ব্যাস, আবার একটা উৎকণ্ঠা লাগিয়ে দিলি তো? তোর এই স্বভাব। বলিস তুই, সাহসী হবি। কিন্তু সাহসী হতে গিয়ে মাঝ পথে আটকে যাস। "
একেই বলে মা। মা তার সন্তানকে হাড়ে হাড়ে চেনে। আমি সাহসী হতে চাই। কিন্তু হটাৎই মাঝপথে খেই হারিয়ে ফেলি আমি। কালো মেঘের মতো, ভয়ে ছেয়ে যায় বুক। আমার এতো ভয় কেন? কেন? নাহঃ ভয় আমাকে জয় করতেই হবে।
অমল মুখার্জীকে তুমি জানো, মা?
"কোন অমল মুখার্জী? সৃষ্টির মাসতুতো দাদা?
তুমি জানলে কি করে?
"সৃষ্টি মাঝে মাঝে দু এক কথা বলে তার সম্বন্ধে। তবে বেশি কিছু না। তার কথা জিজ্ঞেস করছিস কেন? "
নাহঃ এমনিই জিজ্ঞেস করলাম।
লজ্জা পেলাম আমি। আড়ষ্টতা গ্রাস করলো আমায়।
লজ্জা অথবা ভয়? নিশ্চয়ই ভয়। মা যদি ভাবে, লুকিয়ে লুকিয়ে প্রেম করছি বা প্রেমে পড়েছি আমি।
পরক্ষণেই ভাবলাম, প্রেম পড়েছি তো বেশ করেছি। তাতে দোষ কোথায়? একজন যুবতী মেয়ে একজন যুবকের প্রেমে পড়বে, তো তাতে অস্বাভাবিক কি আছে? কাউকে ভালো লেগেছে একথা নিজের মাকে বলতে বাধা কোথায়? বাবাকেই বা বলতে বাধা কোথায়?
আচ্ছা, আমি কি একাই এরকম ভীরু? অথবা সারা ভারতবর্ষের মেয়েরা এই রকম? প্রেমের মতো এতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার, মা বাবারও তো জানা দরকার। কিছু বলবো বলে মায়ের দিকে তাকিয়েছি, তো দেখলাম- মা আমার দিকে তাকিয়ে, মিষ্টি হাসি হাসছে। মা হেসে জিজ্ঞেস করলো-
"এজন্যই কি এতো খুশি খুশি? "
মানে?
"মানে খুব সোজা। তুই প্রেমে পড়েছিস। বাবাঃ হাঁফ ছেড়ে বাঁচলাম। তোর বাবা আর আমার চিন্তা তো তুই বাড়িয়ে দিয়েছিলি। কোন ছেলেকেই নাকি তোর পছন্দ হয় না। তারা কেউই নাকি তেমন ব্যক্তিত্বযুক্ত নয়। জানিস, এজন্য আমি সৃষ্টিকে এতো ভালোবাসি। আমার জীবনের সবচেয়ে কঠিন কাজটা ও করে দিলো।
কে বলেছে আমি প্রেমে পড়েছি?
"কেন? তুই। "
কখন বললাম আমি প্রেমে পড়েছি?
"তুই ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্ট, তো তুই জানিস না- মুখ দিয়ে ছাড়াও, বডি ল্যাঙ্গুয়েজ আর ইমোশান দিয়ে অনেক কথা বলা হয়? "
বডি ল্যাঙ্গুয়েজের তুমি কি দেখলে শুনি?
তোর ফেভারিট পাস্ট টাইম আমার সাথে ঝগড়া করা। আজ তুই তা করলি না। আমার সাথে ঝগড়া করার চেয়ে নিশ্চয় আরও বেশি প্রিয় কিছু ঘটেছে তোর। তোর মুখও আজ অনেক বেশি হাসি হাসি। তারপর অমল মুখাৰ্জী নাম। ব্যাস। এক্কেবারে জলের মতো সহজ- তুই অমল মুখার্জীর প্রেমে পড়েছিস।
নাহঃ আমি প্রেমে পড়ি নি।
"হ্যাঁ তুই প্রেমে পড়েছিস।"
না আমি পড়ি নি।
"হ্যাঁ তুই পড়েছিস।"
তুমি না বড় জ্বালাও আমাকে। এজন্য তোমার সাথে ঠান্ডা মাথায় কোন কথা বলা যায় না। বললাম তিল, তো তাকে বানিয়ে দিলে তাল। যাক গে, আমি গেলাম উপরে। তোমার সাথে ঝগড়া করতে বয়ে গেছে আমার।
হন হন করে সিঁড়ি চড়ার সময়, পিছন ফিরে নজর করলাম- মা তখনও আমার দিকে তাকিয়ে মিষ্টি হাসি হাসছে। মাকে লক্ষ্য করে মুখ বেঁকিয়ে, আমি উপরে উঠে গেলাম।
###
আমি কি সত্যিই প্রেমে পড়েছি? কই না তো। অমল মুখার্জী তো এতবার জিজ্ঞেস করলো আমায়। আমি তো কিছু বলি নি। আমি বরং রীতিমতো তাকে চমকে দিয়েছি। অমল মুখার্জী তো আমাকে একটা প্যাকেটও.....
ধ্যাত্তেরি, প্যাকেটটা এখনো খুলেও দেখি নি। ঘরের মধ্যে খাটের উপর বসে, ব্যাক রেস্টে ঠেস দিলাম আমি। অতি ধীরে অতি যত্নে প্যাকেটটা খুলতেই-
টাটকা একটা গোলাপ
এক জোড়া Ear Rings
আর একটা কাগজ।
কি লেখা? কি লেখা এতে? ..............
© অরুণ মাজী
Bu şiiri puanla
Henüz puan verilmemiş