পৃথিবী বদলাতে চাও? (Wanna Change This World?)
A
0
Altın Yaprak
মানুষও উদর পূর্তি করে বেঁচে থাকে। ছারপোকাও উদরপূর্তি করে বেঁচে থাকে। মানুষের সঙ্গে ছারপোকার খুব বেশি তফাৎ আছে কি?
আছে। ছারপোকা আপন জৈবিক চাহিদার বাইরে কিছু ভাবতে পারে না। কিন্তু মানুষ পারে। মানুষ আপন জৈবিক চাহিদার বাইরে ভাবতে পারে। কিন্তু মানুষ করে কি? করে। সবাই নয়। কেউ কেউ করে। আজকের পৃথিবী এখনও যে ধ্বংস হয়ে যায় নি, তার কারন সেই সব "কিছু মানুষ"।
আজ মরলে কাল দুদিন। পৃথিবীতে কি রেখে গেলে তুমি? কেবল এক মুঠো ছাই? আর কিচ্ছু না? তোমার- রাত জেগে এতো শিক্ষালাভ, দিনভর এতো হাড়ভাঙ্গা খাটুনি- সে সবই কেবল একমুঠো ছাইয়ে রূপান্তরিত হওয়ার জন্য? ছিঃ মানুষ ছিঃ! তুমি না অমৃতের সন্তান! তুমি না জীবকূল শ্রেষ্ঠ জীব!
মানুষ আকৃতি হলেই কি মানুষ হওয়া যায়? আপন জৈবিক চাহিদার বাইরে যদি কিছু না করলে, তবে মানুষ হিসেবে পরিচয় দিতে তোমার লজ্জা করে না? নিজের ছাড়া অন্যের জন্য কি করেছো তুমি? অন্যের জন্য কিছু করা কি খুবই কষ্টের কাজ? ট্যাঁকের পয়সা খরচ না করেও অন্যের জন্য অনেক কিছু করা যায়।
এই মুহূর্তেই তুমি পৃথিবীকে বদলে দিতে পারো। কিভাবে? পৃথিবীকে শক্ত সবল আর সুন্দর করতে সাহায্য করো। তোমার গ্রাম আর দেশকে শক্ত সবল আর সুন্দর করতে সাহায্য করো। কিভাবে? নারী জাতিকে শক্ত সবল আর সুন্দর করতে সাহায্য করো।
তোমার মা কাকিমা বোন যদি নিরক্ষর হয়, তাদেরকে পড়তে সাহায্য করো। তোমার মা কাকিমা বোন যদি ইন্টারনেট ব্যবহার করতে না জানে, তাদেরকে তা শিখতে সাহায্য করো। তাদেরকে ইংরেজী পড়তে আর লিখতে সাহায্য করো।
আমি আগেই বলেছি- হাজার হাজার বছর ধরে রাজনীতি আর ধর্ম পৃথিবীতে যে সাম্য আনতে পারে নি, ইন্টারনেট প্রযুক্তি শেষ দশ বছরে তা এনেছে। সহস্র রাজনৈতিক তত্ত্ব আর সহস্র ধর্ম গ্রন্থ হাজার বছর ধরে- মানুষে মানুষে যে যোগাযোগ গড়তে পারে নি, ইন্টারনেট প্রযুক্তি শেষ দশ বছরে তা গড়েছে। নারী জাতিকে প্রযুক্তি ব্যবহারে পারদর্শী করো। দেখবে নারী জাতি দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে। নারী জাতির উত্থান হলে পৃথিবীর উত্থান হবেই।
হে বন্ধু, জেনে রেখো- আগামী দিনের শিক্ষা আর কর্ম্ম সবই প্রযুক্তি নির্ভর হতে চলেছে। কাজেই তোমরা যত বেশি প্রযুক্তি ব্যবহারে পারদর্শী হবে, তত বেশি তোমরা পৃথিবী আর মহাকাশের দখল নেবে।
একটা মানুষ তার শৈশব আর কৈশোরে কার সাথে বেশি সময় কাটায়? তার মায়ের সাথে। কাজেই মা যদি শিক্ষিত আর সবল হয়, তাহলে তার সন্তানও, শিক্ষিত আর সবল হবেই হবে। মানুষ শিক্ষিত সবল হলে দেশ আর পৃথিবী শিক্ষিত সবল হবেই।
নারী জাতিকে প্রেরণা দেওয়া, তাদেরকে একটু করে লেখাপড়া শেখানো, তাদেরকে প্রযুক্তির ব্যবহার শেখানো কি তোমাদের পক্ষে খুবই কষ্টকর কাজ? মোটেই না। এই মুহূর্তেই হুঁকো টানতে টানতে তোমরা তা করতে পারো। তাহলে তোমরা তা করো না কেন?
পৃথিবী বদলে দিতে চাও? পৃথিবীতে তোমার হৃদয়ের সুগন্ধ রেখে যেতে চাও? খুবই সহজ। আজই তোমার মা কাকিমা আর বোনকে শিক্ষিত করো। প্রযুক্তি ব্যবহারে পারদর্শী হতে সাহায্য করো।
এ পৃথিবী সবার। নারী বা পুরুষ কেউ কারও চেয়ে বড় বা ছোট নয়। দরিদ্র্য বা ধনী কেউ কারও চেয়ে বড় বা ছোট নয়। অমিতাভ বচ্চন বা তুমি- কেউ কারও চেয়ে বড় বা ছোট নয়। সবাই মানুষ। সবাই অমৃতের সন্তান। বড় ছোট কেবল কর্ম্মের ফলে। তুমি যদি অন্যের জন্য কিছু করতে পারো, তাহলে তুমি বচ্চন বা শচীনের চেয়েও বড় মানুষ হতে পারো। মিডিয়া তোমাকে নিয়ে এককথা না লিখলেও, তুমি বড় মানুষ হতে পারো। ফুলের সুগন্ধ বাতাসে মিশে থাকে। বড়মানুষের কৰ্ম্ম অন্য মানুষের রক্ত আর প্রশ্বাসে মিশে থাকে। মানুষের জন্য কিছু করা বা অন্য একজন মানুষকে প্রেরণা দেওয়ার চেয়ে বড় ধর্ম্ম বা কর্ম্ম আর নেই।
© অরুণ মাজী
Bu şiiri puanla
Henüz puan verilmemiş