উত্তরণ ৫২ (Trishna)

A Arun Maji Arun Maji
0 Altın Yaprak
অরুণ মাজীর রোমান্টিক উপন্যাস উত্তরণ ৫২ কার্গিল যুদ্ধ অবলম্বনে ----------- ৫২ 'তুই একটা পাগল অমল। তুই আমাকে, কিছুই ভালো করে করতে দিবি না। এলাম এখানে, মন দিয়ে পড়াশুনা করতে। আর তুই কিনা, দিলি আমার পড়াশুনার বারোটা বাজিয়ে? তুইই বল, বাবা মায়ের দুঃখের কথা শুনলে, মন খারাপ করে না? তুই কেন এমন করিস বল তো? তোর কি কখনো কান্ডজ্ঞান হবে না? বাবা মায়ের প্রতি, তোর যদি এতো দরদ, তো তুই কলকাতা বা মুম্বাই যাচ্ছিস না কেন? তুই তো ইন্ডিয়াতেই রয়েছিস। সিডনি কি ঘরের উঠোন, যে চাইলেই বাবা মায়ের কাছে পৌঁছে যাবো আমি? হুঁ, তোর নিজের কোন কান্ডজ্ঞান নেই। আর তুই কিনা আমাকে, বড় বড় জ্ঞান দিচ্ছিস। তুই একটা যা তা। তোকে কাছে পেলে.... কি করতাম? বল, কি করতাম? তোর কান মুলে, তোকে বেগুন ভর্তা বানিয়ে দিতাম। নাহঃ বেগুন ভর্তা নয়। তেঁতুলের আচার বানিয়ে, তোকে খেয়ে ফেলতাম। একটু নুন কাঁচালঙ্কা, আর ধনিয়া পাতাও দিতাম সাথে। জানিস? তোকে আমি চটকে চটকে খেতাম। তারিয়ে তারিয়ে খেতাম। ছড়িয়ে ছিটিয়ে খেতাম। আকাশের দিকে চেয়ে, ফড়িংকে ভেংচি কেটে খেতাম। হুঁ, যত্তসব ইয়ে কোথাকার। ও হ্যাঁ, কি যেন বলছিলাম- শোন, আগামী অক্টোবরে আমার পরীক্ষা শুরু হচ্ছে। আর মাত্র তিন মাস হাতে। আমাকে তুই আর, কোন মন খারাপ করা চিঠি লিখবি না। বুঝেছিস? বল, কি বুঝলি? তুই যা ক্যাবলা, তোকে আমার একটুও ভরসা হয় না। একটুও.. না। আচ্ছা অমল, তুই কি কখনো একটু চালাক হবি না? সারাজীবন তুই, এমনি প্রকার ক্যাবলা থাকবি? তুই কিনা এক আর্মি অফিসার! আর্মি অফিসার হয়েও তুই এতো ক্যাবলা? আর্মির আর কাজ নেই, শেষে কিনা, তোকে তারা অফিসার বানালো! এইজন্যই আমাদের দেশের এই অবস্থা! শোন, আমার পরীক্ষা শেষ হবে মিড নভেম্বর। পরীক্ষা শেষ হলেই, ছুটিতে আসবো আমি। জানিস? তোর জন্য, সুন্দর এক জোড়া রানার্স কিনেছি আমি। তুই তো খুব এক্সারসাইজ করিস। তাই না? ভাবছি, আসার সময়, তোর জন্য আরও কিছু জিনিস কিনে নিয়ে যাবো। কিন্তু কি কিনি বল তো? ইচ্ছে হয়, তোর জন্য অনেক অনেক কিছু কিনি। কিন্তু কিনতে গিয়ে, খেই হারিয়ে ফেলি। বুঝতে পারি না, ঠিক কি কি কিনবো তোর জন্য। তুইই বরং একটা লিস্ট পাঠিয়ে দে। জানিস? মা বাবা আর জেঠিমাকেও বলেছি, একটা করে লিস্ট পাঠিয়ে দিতে। সেই লিস্ট অনুযায়ী সব কিনবো আমি। জানিস, আমার এখন অনেক টাকা। নাহঃ অনেক অনেক নয়। একটু একটু। আসলে, এখানে পড়াশুনার সাথে সাথে, কাজও করি কিনা। জানিস? সিডনি বেশ অদ্ভুত জায়গা। ইউনিভার্সিটির সব ছাত্রই এখানে, কিছু না কিছু কাজ করে। এমনকি ধনী লোকের ছেলে মেয়েরাও, পড়তে পড়তে, কিছু না কিছু কাজ করে। বেশ অদ্ভুত। তাই না? আমার তো মনে হয়, এরাই ঠিক। আসলে কি জানিস? জীবনের অভিজ্ঞতা না থাকলে, শিক্ষা অসম্পূর্ণ। কাজ শুধু কাজ নয়। কাজ হলো, পৃথিবীকে আরও ভালো করে জানবার উপায়। মানুষকে আরও ভালো করে জানবার উপায়। জীবনকে আরও ভালো করে জানবার উপায়। কাজের মাধ্যমে, বিভিন্ন বয়সের মানুষের সাথে বন্ধুত্ব হয়। তাদের অভিজ্ঞতা থেকে শেখা যায়। বিভিন্ন স্থানে বেড়ানো যায়। এসবই জ্ঞানের পরিধিকে বিস্তৃত করে। এসব জ্ঞান, কেউ কখনো বই থেকে শিখতে পারবে না। জানিস, এখানকার এক জার্নালিস্টের এসিস্ট্যান্টের কাজ করি আমি। মেয়ে জার্নালিস্ট নয়, ছেলে। কালা নয়, গোরা। তোর মতো ক্যাবলা নয়, বেশ স্মার্ট আর হ্যান্ডসাম। জানিস? লোকটাকে আমার বেশ ভালোই লাগে। শুধু বেশ নয়, তার চেয়েও বেশী ভালো লাগে। ভালো লাগবে নাই বা কেন? সে কি আর তোর মতো ক্যাবলা? তুই তো জানিস, ক্যাবলা ছেলেকে আমার একটুও পছন্দ নয়। ক্যাবলা কাউকে দেখলেই, আমার কান মুলতে ইচ্ছে করে। অবশ্য তুই একটু অন্য ধরণের ক্যাবলা। মানে, তুই একটু একটু ক্যাবলা, আর একটু একটু বুদ্ধিমান। আর সেই সঙ্গে, তুই একটু একটু 'কি যেন কি'? 'এই কি যেন কি'র জন্যই, এখন থেকে তোর জন্য শপিং করছি আমি। অবশ্য তার মানে এই নয় যে, তোকে আমি বেশী বেশী ভালোবাসি। প্রতিরাতে না হয় তুই, স্বপ্নেই আসিস। তার মানে কি এই, যে তোকে আমি বেশী বেশী ভালোবাসি? হুঁ, তোর মতো ক্যাবলাকে, ভালোবাসতে আমার বয়ে গেছে। এতো সুন্দর সুন্দর, স্মার্ট ছেলে থাকতে, ক্যাবলা ছেলেকে ভালোবাসবো কেন? তবে কি জানিস? ইচ্ছে হয় না, তবুও তোকে স্বপ্নে দেখে ফেলি। স্বপ্নে তোকে দেখতে চাই না, তবুও তোকে বুকে জড়িয়ে ফেলি। ধুস, এ জন্য আমি তোর সাথে কোন কথা বলতে চাই না। তোর সাথে কথা বলতে শুরু করলেই, মাথাটা বিগড়ে যায় আমার। যা বলতে লিখতে শুরু করা, সেটাই ভুলে গেছিলাম আমি। শোন, নভেম্বরের ১৬ তারিখে কলকাতায় আসছি আমি। এয়ারপোর্টে আসিস কিন্তু। কেন আসবি? তা তুই, গেলেই ববুঝতে পারবি। তুই ভালো থাকিস অমল। ঈশ্বর তোর মঙ্গল করুন। তৃষ্ণা ' © অরুণ মাজী

Bu şiire çeviri ekle ·

Bu şiiri puanla

Henüz puan verilmemiş

Yıldıza dokunarak 1–10 arası puan ver

Yorumlar

Yorum yapmak için giriş yapmalısın.

Giriş yap

Bu şiire henüz yorum yapılmamış. İlk sen ol.

Sana daha iyi bir okuma deneyimi sunabilmek için sitemizde çerez kullanıyoruz. Kişisel verilerin KVKK ve GDPR kapsamında işlenir; hangi çerezlere izin verdiğini dilediğin zaman değiştirebilirsin.