আমি সুভাষ বলছি
A
0
Altın Yaprak
আমি সুভাষ বলছি
ইতিহাসের ছেঁড়া পাতা থেকে।
আমি বিপ্লবী মানুষের চেতনা বলছি
তাদের বিস্মৃতঅজানা কবর থেকে।
আমি অত্যাচারিতের আত্মা বলছি
ধর্ষিত নারীর রক্তস্রোত থেকে।
আমি বিবেক বলছি
হারানো মনুষত্বের আর্তনাদ থেকে।
তু মুঝে খুন দে। হাম তুঝকো আজাদী দুঙ্গা।
আজ আর তা বলবো না।
আজ বলছি
তু মুঝে হুঁশ দে। হাম তুঝকো আজাদী দুঙ্গা।
কিতনে বেঁহুশ হো তুমলোগ ভাইয়োঁ !
কিতনে বেঁহুশ হো তুমলোগ।
কে তারা
যারা আপন স্বার্থে, ভারতভূমিকে দ্বিখণ্ডিত করলো?
যারা সিংহাসন লোভে, মাতার দেহে বিষ বৃক্ষের চারা পুঁতলো?
যারা ক্ষমতার নেশায়, কোটি কোটি মানুষকে
হিংসা আর দাঙ্গার দিকে ঠেলে দিলো?
কে তারা?
অহিংসার আড়ালে, ঘৃণার বীজ বুনেছে কারা?
নিরপেক্ষতার আড়ালে, বিভাজনের বৃষ বৃক্ষ রোপন করেছে কারা?
গণতন্ত্রের আড়ালে, রাজতন্ত্র কায়েম করেছে কারা?
কারা আজ দেশের রূপকার? জাতির জনক?
লক্ষ লক্ষ ভারত সন্তানের রক্তে
দশ পুরুষের ভাগ্য এঁকেছে কারা?
ভারত মাতাকে বন্ধক রেখে
আপন রাজমুকুটে, সাফল্য এঁকেছে কারা?
মূর্খ মানুষকে অহিংসার আফিমে বুঁদ রেখে
মানুষকে চির দুর্বল দরিদ্র্য রেখেছে কারা?
কাঁদছে শিশু, কাঁদছে নারী
কাঁদছে ধর্ষিত মায়েরা।
কাঁদছে ভারত, কাঁদছে বিবেক
উৎসব করে নেতারা।
এ কোন ভারত? এ কোন স্বাধীনতা?
বিভাজন আর বিভাজন-
নিরপেক্ষতার আড়ালে বিভাজন
ধর্মের আড়ালে বিভাজন
সংরক্ষণের আড়ালে বিভাজন
দলিতের নামে বিভাজন।
খন্ডে খন্ডে খন্ডিত ভারত।
এ কোন ভারত? কার ভারত?
এ কি- বুদ্ধের ভারত? শঙ্করাচার্য্যের ভারত?
স্বামীজীর ভারত? বিদ্যাসাগরের ভারত?
আমি সুভাষ বলছি
শোকার্ত কবরের প্রতিধ্বনি থেকে।
আমি সুভাষ বলছি
অনাহার ক্লিষ্ট বৃদ্ধার চোখের জল থেকে।
আমি সুভাষ বলছি
কৃষকের আত্মহত্যার গোপন স্বপ্ন থেকে।
কবরে শায়িত সুভাষ
আজও মরে নি।
অজানা শ্মশানের নাজানা চিতায়
দাউ দাউ করে প্রজ্বলিত সুভাষ
আজও মরে নি।
লক্ষ কোটি মানুষের হৃদয়ে লুক্কায়িত সুভাষ
আজও মরে নি।
কৃষকের আর্তনাদে জীবিত সুভাষ
আজও মরে নি।
ধর্ষিতার রক্তস্রোতে অশ্রু সিক্ত সুভাষ
আজও মরে নি।
উন্মাদ কবির কবিতায় জ্বাজল্যমান সুভাষ
আজও মরে নি।
তু মুঝে হুঁশ দে। হাম তুঝকো আজাদী দুঙ্গা।
কিতনে বেঁহুশ হো তুমলোগ ভাইয়োঁ
কিতনে বেঁহুশ হো তুমলোগ।
কিন্তু আমি?
হারানো জগতে থাকলেও
আমি তোমাদের ভুলি নি।
তোমরা আমাকে হত্যা করলেও
আমি তোমাদের ভুলি নি।
আমি সুভাষ বোস
ভারতকে ভুলতে পারি নি।
© অরুণ মাজী
Bu şiiri puanla
Henüz puan verilmemiş