গাঁজা উন্মাদ আর মৃত্যু
A
0
Altın Yaprak
মৃত্যুর আজ মন ভালো নেই।
ছুঁবে না
সে আজ কাউকে ছুঁবে না।
শুনছো, বিন্দীর মা?
ঘোষ পাড়াতেও জানিয়ে দিও
মৃত্যু এখন ধর্মঘটে।
মৃত্যু আজ কাউকে ছুঁবে না।
কাঁহাতক আর বেকার বেকার খাটা?
জীবন যৌবন প্রেম
সবারই শালা রিটায়ারমেন্ট হয়
অথচ নাম আমার মৃত্যু বলে
আমার কখনো হয় না।
তুমিই বলো না নগেন মাস্টার।
মৃত্যু বলে কি মানুষ নই আমি?
তুমি শালা ছাত্র পোড়ানোর নাম করে
আজীবন
পেন্তীর মায়ের সাথে লাইন মারলে।
তবুও পঁয়ষট্টি পেরোনোর আগেই
তোমার ব্যাগভর্তি পেনশন!
অথচ আমার?
মুহূর্তের তরে ফুরসৎটুকু নেই।
তুমিই বলো না মাস্টার,
মৃত্যু বলে কি মানুষ নই আমি?
অনশন।
আজ আমার আমরণ অনশন।
মাথার উপর আকাশ
পায়ের নিচে মাটি।
মাঝখানে এক অনন্ত শূণ্যস্থান।
সেই শূণ্যস্থানে
কেবল মিথ্যে।
মিথ্যে জন্ম। মিথ্যে যৌবন।
মিথ্যে স্বপ্ন। মিথ্যে প্রেম।
মিথ্যে মালবিকা, মিথ্যে অমল।
সেই শূণ্যস্থানে বাষ্পের বুঁদ হয়ে উড়ছে
অমলের অহংকার। মালবিকার জীবন।
নগেন মাস্টারের তৃতীয় বিবাহের স্বপ্ন।
সিরোসিস রোগে আক্রান্ত বটু মাতালের
সংসারের
বেঁচে থাকার ছোট্ট একটু আশা।
সেই শূণ্যস্থানে
নিভু নিভু করে জ্বলছে
উন্মাদ অরুণ মাজী নামে
উলঙ্গ এক ছারপোকার হাস্যকর স্পর্ধা।
স্পর্ধাটা কিসের যেন?
মানব চেতনার চৈতন্য ঘটাবে সে!
দেওয়ালের টিকটিকিটা
টিকটিকি করে
কাকে যেন
তিনবার টিটকিরি করে গেলো?
কেবলই টিকটিকি?
হারামজাদাকে
তেলাপোকা ছারপোকা এঁটুলিপোকা-
সবাই টিটকিরি করে।
করবেই তো। আলবৎ করবে।
হাতি ঘোড়া গেলো তল
মশা বলে কত জল!
কোথায় গেলে গো তিন্নির মা?
এই হারামজাদার নাকে
বিষাক্ত পিঁপড়ে ছেড়ে দাও।
মাথার উপর চাঁদ
পায়ের নিচে নদী।
চাঁদটা খিলখল করে হাসছে
নদীটা গুনগুন করে গাইছে।
এরা হাসছে কেন? গাইছে কেন?
মৃত্যুই যদি ঠিকানা সবার
এ হারামজাদারা গাইছে কেন?
মাথার মধ্যে গাঁজা
বুকের মধ্যে রক্ত।
উন্মদটা তবুও
একটু, আর একটু বাঁচতে চাইছে।
© অরুণ মাজী
Bu şiiri puanla
Henüz puan verilmemiş