পাহাড়ি মেয়ে খন্ড ১২ (Himel)
A
0
Altın Yaprak
পাহাড়ি মেয়ে খন্ড ১২ অরুণ মাজীর রোমান্টিক উপন্যাস
সময় বয়ে যায়। নদীর মতো। নিঃশব্দে। তবে এক্কেবারে নিঃশব্দে নয়। জোয়ারের সময় অষ্টাদশী নারীর মতো বুকে তুফান তুলে। আর ভাঁটার সময় ব্যথা বুকে, মাতৃহারা হরিণ শিশুর মতো।
এক সপ্তাহ বয়ে গেলো। মাঝে মাঝে হিমেলকে মনে পড়ে। ওকে একটু দেখতে ইচ্ছে করে। কিন্তু উপায় নেই, তাই ইচ্ছেটাকে দাবিয়ে দিই। মন দিই কাজে। কিন্তু পরক্ষণেই ইচ্ছেটা আবার, আরও জোরে মাথা চারা দিয়ে জেগে উঠে। অবাক হই এই ভেবে যে আমার নিজের মধ্যে, কত বিশৃঙ্খল আবেগ! আর সেই আবেগে আমি কত অসহায়।
অথচ হিমেল এখনো আমার কেউ নয়। কেউ যে হবে, তারও কোন নিশ্চয়তা নেই। আমি চাইলেই কি হিমেল আমাকে ভালোবাসবে? হিমেলের নিজস্ব চেতনা আছে। তার নিজস্ব ইচ্ছে আছে। নিজস্ব স্বপ্ন আছে। আমি এক আগন্তুক। আমি কি তাকে বাধ্য করতে পারি?
আর এমনও তো হতে পারে, হিমেলের গোপন কোন প্রেমিক আছে। বা হিমেল বিবাহিতা। আমি তো সে সব জানি না। আর হিমেলও তা বলে নি।
বুকের মধ্যে ব্যথাটা আরও গাঢ় হলো। বুকটা ডুকরে উঠলো। হিমেল যদি বিবাহিত হয় তো সব শেষ। আর যদি ওর প্রেমিক থাকে, তাহলে? তাহলে কি?
আমি কি ওকে ছিনিয়ে নিতে পারবো? ছিনিয়ে নেওয়া কি ঠিক হবে? এক প্রেমিক হয়ে, অন্য এক প্রেমিকের প্রেমকে আঘাত করবো? তা কতখানি প্রেম সুলভ? তা কি ক্ষমতার দ্বন্দ্ব নয়? তা কি ক্ষমতার আস্ফালন নয়? ক্ষমতার আস্ফালন তো আমার চরিত্র নয়। মানুষকে আঘাত করতে, লড়াই করা তো আমার চরিত্র নয়।
কিন্তু এও তো সত্য, হিমেল আমার রাত্রির স্বপ্ন জুড়ে রয়েছে। হিমেল আমার চিন্তা আর কল্পনা জুড়ে রয়েছে। নাহঃ আর ভাবতে চাই না। ভাবলেই ব্যথাটা আরও গাঢ় হয়ে চেপে বসে।
ক্রিং ক্রিং ক্রিং..... আমার ফোন বেজে উঠলো।
হ্যালো
"ভাই, আমি বলছি।"
দিদি, তুই?
"Guess, where we are."
কোথায়?
"আমরা এখন দার্জিলিংয়ে।"
দার্জিলিংয়ে! মানে?
হ্যাঁ। আমরা এখানে এক রেস্টুরেন্টে লাঞ্চ করছি। আর শোন, হেমা নামে সুন্দর একটি মেয়ে, আমাদেরকে খুব যত্ন করে খাওয়াচ্ছে। কিগো হেমা, তাই না?
তুই না যা তা। আর বিদুদা?
"বিদু পিকুও আমার সাথে। তুইও চলে আয়।"
চলে আসবো মানে? কোন প্ল্যান নেই, দুম করে আসা যায়?
"ধ্যাৎ, দার্জিলিংয়ে আসতে গেলে কি রকেট সায়েন্সের প্ল্যান করতে হয়? "
ফোনে এবার বিদুদার কণ্ঠস্বর ভেসে এলো-
চলে এসো অমল। তোমার মন খারাপের সময়, দার্জলিংয়ের হাওয়া খেয়ে যাও। দার্জিলিংয়ের হাওয়া খুব সুন্দর, তাই না হেমা?
ফোনে ক্ষীণ এক কণ্ঠস্বর ভেসে এলো-
"হ্যাঁ।"
এবার দিদির আওয়াজ-
"শোন, আমরা বিনয়দের বাড়িতেই উঠেছি। তুই আজই রওনা দে। বাই। "
আহাঃ হিমেল কণ্ঠের "হ্যাঁ"! ঊহঃ বুকের মধ্যে এক শিহরণ জাগলো। হিমেল হিমেল হিমেল! ।
না, যেতে আমাকে হবেই। এখুনি। আজই। মাকে ফোন করলাম-
"হ্যালো"
মা, দিদিরা দার্জিলিং যাচ্ছে, আমাকে তুমি বলো নি? "
"কেন? আমি জানতাম তুই জানিস।"
না, আমি জানতাম না। শোনো, আমাকেও ওরা আসতে বলেছে।
"সে তো ভালো কথা। যা। হৈ চৈ করে আয়। মনটা তোর ভালো হবে।"
আমার মন খারাপ, তা তোমাকে কে বললো?
"বলতে কেন হবে? দেখলে বোঝা যায় না? এজন্যই তোর বাবা তোকে ইডিয়েট বলে। "
© অরুণ মাজী
Bu şiiri puanla
Henüz puan verilmemiş