পাহাড়ি মেয়ে খন্ড ১৭ (Himel)

A Arun Maji Arun Maji
0 Altın Yaprak
পাহাড়ি মেয়ে খন্ড ১৭ অরুণ মাজীর রোমান্টিক উপন্যাস দ্বাদশীর রাত্রি। চাঁদ বেশ আগেই জেগে উঠলো। বাড়ির দালানে, আমরা চেয়ার টেবিল নিয়ে বসে। সামনে বাগান। দূরে পাহাড়। আর পাহাড়ের উপর চাঁদ হাসছে। বেশ ভালো করে নজর করলে দেখা যায়, পাহাড়ের চূড়া সাদা বরফে ঢাকা। আঁধারের সাথে, বরফের সাদা রঙের মিশ্রণ বেশ মায়াবী। বাড়ির দালানের আলোতে তেমন তেজ না থাকলেও, জ্যোৎস্নার আলো যুক্ত হয়ে বাগানটা বেশ সুদৃশ্য লাগছে। যদিও একটু আগে মা ফোন করে জানালো, দার্জিলিংয়ের কোন রাজীনীতিককে নিয়ে দার্জিলিং বেশ তেতে উঠেছে, তবুও আমরা তাতে বেশি বিচলিত হলাম না। কে জানে, প্রকৃতির মায়াবী কোলে থাকলে, মানুষের উদ্বেগ বুঝি জন্মে না। আমরা কলকাতার বাঙালী, তাই জন্ম থেকেই রাজনীতিটা একটু বুঝি। বাঙালী চিন্তা করতে ভালোবাসে। বাঙালী তর্ক করতে ভালোবাসে। বাঙালী রাজনীতির আলোচনা ভালোবাসে। বাঙালী বিঁড়ির আধখানা ফুঁকে, বাকি আধখানা ট্যাঁকে গুঁজে রাখলেও; বাঙালী কিন্তু আইনস্টাইন, ফ্রেডেরিক নিচা, লিও তলস্তয় নিয়ে আলোচনা করতে ভালোবাসে। যে ছেলেটি চায়ের দোকানে কাজ করে, তারও রাজনীতি নিয়ে নিজস্ব মতামত আছে। এই রাজনীতি সর্বস্ব জীবনধারা ভালো অথবা খারাপ? এই নিয়ে আমাদের আজকের সান্ধ্যকালীন তর্ক। বিতর্ক। রাগ। অভিমান। টেবিল বাজানো। সেই তর্কে কেউ কাউকে ছাড়ার পাত্র নয়। এমনকি পিকুও পিছু হটলো না। পিকু বললো, কম্পিউটার গেমসের "গেমাররা" এই পৃথিবী বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। দিদি বা আমি, কম্পিউটার সায়েন্টিস্ট হয়ে, কথাটা কিন্তু এক্কেবারে ফেলতে পারলাম না। হরিও উঁকি মেরে মেরে রাজীনীতির দু কথা শুনিয়ে গেলো। সে বললো- দেখে নেবেন সাহেব, সরকার বদল হলেই, বাংলার চেহারা বদলে যাবে। কিন্তু কিভাবে হবে, সে সম্পর্কে হরি বিশেষ কোন আলোকপাত করতে পারলো না। বিদুদা দিদি বা আমি- তর্কের মধ্যে আমাদের ভিন্ন মত ঠুকলেও, আমরা সবাই কিন্তু এক জায়গায় একমত। তা হলো- এ পৃথিবীতে গণতন্ত্র চাই। তাই হরির অংশগ্রহণকে আমরা বেশ সাদরে স্বাগত জানালাম। অবশেষে, দিদি বললো- সে যেহেতু এক নারী। সেই নারী ক্ষমতা বলে, সে অটোমেটিক্যালি, এই বিতর্ক সভার সভানেত্রী। তাই সে টেবিল বাজিয়ে, মুখের মধ্যে আঙুল ঢুকিয়ে হুঁইশেল বাজিয়ে বললো- মহোদয়গণ, এবার উপসংহার শুনুন আপনারা। বিতর্ক চিরদিন বিতর্কই থাকবে। মানুষ যতদিন বাঁচবে বিতর্ক ততদিন বাঁচবে। বিতর্ক দীর্ঘজীবী হোক। বাঙালীর রাজনীতি দীর্ঘজীবী হোক। বাঙালীর ঊর্বর মস্তিস্ক দীর্ঘজীবী হোক। এবার দর্পণকে ফোন করা যাক। আমরা সবাই চমকে উঠলাম। বিদুদা হা হা করে হেসে উঠলো। হাসতে হাসতে সে বললো, রাজনীতির বিতর্কের উপসংহারে, তোমার বান্ধবী ঢুকলো কি করে? তুমি দেখছি, অমলকে পাগল করে ছাড়বে? দিদি বললো- সে কি! আমাদের বিতর্কে, দর্পণের কোন ভূমিকা থাকবে না? আমাদের বাড়ির কোন বিতর্ক, দর্পণ ছাড়া কখনো হয়েছে? এই বলে দিদি, দর্পণের নাম্বার ডায়াল করলো। শোন দর্পণ, আমরা এখন এক গুরুতর বিতর্কের মধ্যে। আমরা এখন তোর মতামত চাই। ফোনের অন্য প্রান্তে দর্পন কি বললো জানি না দিদি বললো, "বিতর্কের টপিকটা তুই অমলের কাছ থেকে শোন, আর তোর মতামত দে। এর পর ফোনটা, টেবিলে উপর আমার দিকে ছুঁড়ে দিদি বললো- বিদু, এসো। আমরা রান্নাঘর থেকে খাওয়ারটা টেবিলে রাখি। আর অমল, দর্পণকে ব্যাপারটা একটু বোঝাক। বিদুদাকে একপ্রকার টানতে টানতে, দিদি ঘরের ভেতরে নিয়ে গেলো। বিদুদা যাওয়ার সময়, এক ব্যঞ্জনাময় হাসি হেসে গেলো। পিকু আমার মুখের দিকে চেয়ে দেখলো। আমি পিকুর দিকে চেয়ে দেখলাম। পিকু ফোনটা তুলে নিয়ে বললো- মাসী তুমি কেন এলে না? ফোনের অন্য প্রান্তে দর্পন কি বললো জানি না কিন্তু পিকু যোগ করলো- মা তোমাকে আসতে বলে নি? বেশ আমি বলছি, তুমি এখুনি চলে এসো। নাও, মামুর সাথে কথা বলো এখন। পিকু ফোনটা আমাকে দিলো। আমি এখনও হতবম্ভ। কি বলবো বুঝতে পারলাম না। দর্পণের সাথে এর আগে আমি বেশ সহজ ভাবেই কথা বলেছি। কিন্তু আজ! নিজের প্রতি এক প্রকার জোর করে বললাম- হ্যালো দর্পণ, কেমন আছো? "বেশ ভালো। Are you alirght? You sound very unfamiliar today? " মানে? তোমার গলার স্বর আজ অচেনা লাগছে। বুঝলাম না। বেশ কিছুক্ষণ আমরা চুপ। পরে দর্পণ জিজ্ঞেস করলো কি হয়েছে অমল? নাহঃ কিচ্ছু না তো। জানি। তুমি বলবে না। বেশ, লাবণ্যকে জিজ্ঞেস করছি আমি। তুমি কি আসছো দর্পণ? এ কথা জিজ্ঞেস করেই, আমি জিব কাটলাম। পরিতাপ করলাম। ইশঃ এ কথা তো আমি জিজ্ঞেস করতে চাই নি! আর কিছু বলার আগেই, দর্পণ বললো- পিকু ছাড়া, আমাকে তো কেউ ওখানে ডাকে নি! দর্পণের গলায় আন্তরিক খেদ। এরপরও ওকে না ডাকলে, ভীষণই নিষ্ঠুরতা আর অভদ্রতা হয়। তাই বললাম- এই তো আমি ডাকলাম। সত্যি বলছো? সত্যি। "You sound very unfamiliar Amal. But I am very happy. I would come. ফোনটা লাবণ্যকে দাও প্লিজ। রান্না ঘরে গিয়ে ফোনটা আমি, দিদিকে দিয়ে এলাম। এরপর আমরা সবাই খাচ্ছি। খেতে খেতে, হটাৎই ফোনটা টেবিলে রেখে স্পিকার "অন" করে দিদি মাকে ফোন করলো। মা, দর্পণও কাল দার্জিলিং আসছে। জানো মা? ভাই দর্পণকে ডেকেছে! বিদুদা পাশ থেকে বললো- অমল, দর্পণকে ডেকেছে। এখানে? কখন? কিছুই জানি না তো আমরা! দিদি বললো কেন? দর্পণকে এখানে না ডাকার কি আছে? বিদুদা না তা আমি বলছি না। এ তো বেশ ভালো খবর। একটু অবাক হয়েছি এই যা। দিদি মা, তোমরা আসবে না কি? পারলে দর্পণকে নিয়ে একসাথে চলে এসো। মা তোরা ছেলেপুলের দল। তোরাই হৈ চৈ কর। আমরা পরে আসবো। দিদি ফোনটা রেখে দিলে, বিদুদা আমার দিকে তাকিয়ে, আরও একবার ব্যঞ্জনাময় হাসি হাসলো। আমি বললাম তোমরা আমাকে মুরগী করে ফাঁসাচ্ছো। দিদি বললো মুরগী তুই বারো বছর আগে হয়েছিস। দর্পণের মতো সুন্দর এক মেয়ে যেদিন থেকে তোর প্রেমে পড়েছে, সেদিন থেকেই তুই মুরগী। আমি- তার মানে? দিদি মানে সময় হলে বুঝবি। Love is never lost, Mr Amal Bose. বাবা ঠিকই বলে, তুই একটা ইডিয়েট। © অরুণ মাজী

Bu şiire çeviri ekle ·

Bu şiiri puanla

Henüz puan verilmemiş

Yıldıza dokunarak 1–10 arası puan ver

Yorumlar

Yorum yapmak için giriş yapmalısın.

Giriş yap

Bu şiire henüz yorum yapılmamış. İlk sen ol.

Sana daha iyi bir okuma deneyimi sunabilmek için sitemizde çerez kullanıyoruz. Kişisel verilerin KVKK ve GDPR kapsamında işlenir; hangi çerezlere izin verdiğini dilediğin zaman değiştirebilirsin.