পাহাড়ি মেয়ে খন্ড ১৯ (Himel)

A Arun Maji Arun Maji
0 Altın Yaprak
পাহাড়ি মেয়ে খন্ড ১৯ অরুণ মাজীর রোমান্টিক উপন্যাস খট খট খট সোফাতে বসে, পিকুর ভিডিও গেমস নিয়ে খেলছি, তো বাড়ির দরজায় আওয়াজ। উঠে গেলাম আমি। দরজা খুললাম। দেখলাম- দর্পণ! জানতাম দর্পণ আসছে। তবুও ওকে দেখে, বেশ অবাক হলাম আমি। আমার দিকে আড়চোখে তাকিয়ে, মিষ্টি একটু হাসলো দর্পণ। তারপর ও বললো "ডেকেছিলে তাই চলে এলাম। তো অবাক হয়ে তাকিয়ে কেন? " নিজেকে সামলে নিয়ে বললাম বাহঃ অবাক হবো কেন? খুশি হয়েছি আমি। "সত্যিই খুশি হয়েছো? " মিথ্যে কখনো বলি আমি? "অন্যকে বলো না, জানি। কিন্তু আমাকে বলো।" মানে? "কখনো সৌভাগ্য় হলে বলবো একদিন।" ওর হাত থেকে ওর সুটকেসটা নিয়ে নিতে চাইলে, ও একটু ইতস্তত করলো। কিন্তু শেষে হার মানলো। সুরকেসটা হাতে নিয়ে, ভেতরে এলাম। ঘরের এক কোণে, সুকেসটা রেখে সোফাতে বসলাম আমরা। ওকে জিজ্ঞেস করলাম- ট্রেনে ঘুম হয়েছে? "নাহঃ দিনের বেলা ট্রেনে ঘুমানো বেশ কঠিন।" বেশ, এখন তবে রেস্ট করো। "নাহঃ রেস্টের দরকার নেই। আসতে আসতে বাইরের দৃশ্য দেখে বেশ চনমনেই আছি। লাবণ্য কোথায়? " ওরা একটু বাজারে গেছে। "আর তুমি? " যে কোন মুহূর্তে তুমি এসে যেতে পারো, তাই আমাকে রেখে গেছে। "আমার জন্য অপেক্ষা করছো? কি সৌভাগ্য আমার! " এমন করে বলো না দর্পণ। নিজেকে ছোট লাগে। তুমি সবসময়ই সুন্দর। I always respect you. "Only respect? " আর কি চাও? "তা তুমি ভালোই জানো।" নাহঃ জানি না। You never told me. "মিথ্যে।" মিথ্যে মানে? "সব কথা কি মুখ দিয়ে বলতে হয়? চোখ দিয়ে বলা যায় না? নৈঃশব্দ দিয়ে বলা যায় না? " হয়তো বলা যায়। But I am not that intelligent. "বোকা সেজে লুকাতে চাও কেন? " তুমি চা খাবে? অথবা সফ্ট ড্রিঙ্কস? "আবার লুকাচ্ছো তুমি! " আমি হেসে ফেললাম। বললাম লুকাচ্ছি না। তুমি দূর থেকে এলে। তাই জিজ্ঞেস করছি, কি খাবে তুমি। "চা আমি নিজেই বানিয়ে নিতে পারবো। আমি এসেছি তুমি ডেকেছো বলে।" কিছুক্ষণ চুপ থাকার পর, সোফার অন্য প্রান্ত থেকে, আমার দিকে একটু ঝুঁকে, এক্কেবারে আমার চোখে চোখ রেখে মৃদু স্বরে ও বললো- "তোমার সাথে আমার কিছু কথা হওয়া দরকার অমল।" ওর গলায় আওয়াজ মৃদু। কিন্তু বেশ গুরু গম্ভীর। আমি একটু বিচলিত হলাম। জানি, দর্পণ আমার কাছের মানুষ। ওর সঙ্গে আমার সম্পর্ক এমনিতে বেশ স্বাভাবিক। কিন্তু কেন জানি না, মাঝে মাঝে ওর সঙ্গে সম্পর্কটা বেশ গুলিয়ে ফেলি আমি। মনের মধ্যে পুরানো একটা প্রশ্ন ভেসে এলো- দর্পণের মধ্যে এমন কি কিছু আছে, যা ভয় পাই আমি? কি সেটা? ওর চারিত্রিক সৌন্দর্য্য? ওর বাহ্যিক সৌন্দর্য্য? ওর বুদ্ধিমত্তা? কোনটা? পরক্ষণেই আবার অবাক হলাম। দর্পণকে ভয় পাই? আমি? দর্পণকে? বড় অদ্ভুত! আমাকে ভাবতে দেখে ও জিজ্ঞেস করলো "ভয় পেলে? " নাহঃ ভয় পাবো কেন? "আবার মিথ্যে বললে অমল।" মানে? আমার থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছো তুমি। কিন্তু কেন? আমি তো তোমার কাছে সহজই থাকি। একটু চা বানাই? দর্পণ হাসলো। বললো- "চা বানাতে চাও অথবা পালাতে চাও? " তারপর ও যোগ করলো- "বানাবে? বেশ বানাও। দর্পণ আমার দিকে চেয়ে, স্নিগ্ধ চাঁদের মতো সুন্দর এক হাসি হাসলো। ওই হাসিতে শান্তির প্রচ্ছায়া। আমি একটু সহজ অনুভব করলাম। বললাম- তুমি কি জানো দর্পণ, আমি এখানে এক পাহাড়ি মেয়েকে খুঁজতে এসেছি? "জানি।" জানো! কে বললো তোমায়? "লাবণ্য।" দিদি, তাও তোমাকে বলেছে? "কেন বলবে না? " হুঁ। তো তোমার কি বক্তব্য? "Best of luck! " স্টোভে জল চড়িয়ে দিয়ে, আমি ওর দিকে তাকিয়ে রইলাম। দর্পণও আমার দিকে তাকিয়ে রইলো। আমি বললাম- সরি। তোমাকে আঘাত করলাম আমি! "ও নিয়ে ভেবো না তুমি। ও সয়ে গেছে।" মানে? "তোমার দেওয়া আঘাত আমার সয়ে গেছে।" দর্পণের গলার আওয়াজ মৃদু, সুরেলা। কিন্তু সে সুর অদৃশ্য অশ্রু দিয়ে সিক্ত। আমি চা কাপ প্লেট, কফি টেবিলে যখন নামিয়ে রাখছি, দর্পণ বললো- "এ পথে কিন্তু তুমিই আমাকে এনেছো অমল।" মানে? সোফাতে বসে, আমার বেশ কাছে এসে, আমার দিকে চেয়ে দর্পণ বললো- জানি, তুমি ভুলে গেছো। কিন্তু সে কথা তোমাকে মনে করাতে গেলে নিজেকে বড় হীন হতে হয়। কিন্তু আমি যদি জানতে চাই? সে গল্প অনেকটা, শকুন্তলা দুষ্মন্তের গল্পের মতো। ব্যাপারটা বেশ রহস্যময় ঠেকলো। বললাম এক্কেবারে শকুন্তলা দুষ্মন্তের গল্পের মতো? মানে আমি রাজা দুস্মন্ত আর তুমি ঋষি কন্যা শকুন্তলা? খট খট খট ওহঃ দিদিরা এসে গেছে। তুমি বসো। আমি দেখছি। © অরুণ মাজী

Bu şiire çeviri ekle ·

Bu şiiri puanla

Henüz puan verilmemiş

Yıldıza dokunarak 1–10 arası puan ver

Yorumlar

Yorum yapmak için giriş yapmalısın.

Giriş yap

Bu şiire henüz yorum yapılmamış. İlk sen ol.

Sana daha iyi bir okuma deneyimi sunabilmek için sitemizde çerez kullanıyoruz. Kişisel verilerin KVKK ve GDPR kapsamında işlenir; hangi çerezlere izin verdiğini dilediğin zaman değiştirebilirsin.