পাহাড়ি মেয়ে খন্ড ২৭ (Himel)
A
0
Altın Yaprak
অরুণ মাজীর রোমান্টিক উপন্যাস
ঘুম যখন আধখানা ভাঙলো, অনুভব করলাম- আমার বুকের উপর নরম আর ভারী কিছু একটা। অচেনা সেই অনুভবে ঘুমটা পুরো ভেঙে গেলো। দেখলাম- দর্পণ আমার বুকে শুয়ে। এখনো গভীর নিদ্রামগ্ন। এখনো সজোরে জড়িয়ে রয়েছে আমাকে।
জানালার ফাঁক দিয়ে সূর্যের রশ্মি ঘরের ভেতরে ঢুকছে এখন। রশ্মির তেজে বুঝতে পারলাম, বেশ বেলা হয়েছে। দর্পণের মুখের দিকে আবার চেয়ে দেখলাম আমি। কপালের উপর কতকগুলো চুল এসে, ওর মুখটা ভালো করে দেখতে দিচ্ছিলো না। সেই চুলগুলো মুহূর্তেই সরিয়ে দিলাম আমি। আমি দর্পণের মুখটা ছুঁলাম। ছুঁলাম- ওর ভ্রু গাল আর চিবুক।
তারপর দেখলাম- ওর গলায়, সেই ক্ষতটা। আঁচড়ের ক্ষত। আমার আঁকা আঁচড়। ওই আঁচড়ের দিকে চেয়ে রইলাম আমি। তারপর দর্পণের ঠোঁটে আলতো করে একটা চুমু দিলাম। দর্পণ চোখ মেললো। কিছু বললো না। আমাকে একটু দেখে, আমাকে আরও জোরে জড়িয়ে ধরে আবার চোখ বন্ধ করলো। আমি মৃদু হাসলাম। বললাম-
উঠবে না?
"উঁহু।"
বেলা হয়েছে।
"হোক।"
ওরা কিন্তু আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে।
"করুক।"
বুঝলাম, ও আরও কিছুক্ষণ এভাবে ঘুমানোর চেষ্টা করছে। ওকে বুক থেকে সরিয়ে দিয়ে উঠে যেতে চাইলাম না আমি। এতো সুন্দর একটা অনুভূতি, এতো সুন্দর একটা মুহূর্তকে ভেস্তে দেওয়া শুধু মূর্খামি নয়। নিষ্ঠুরতাও। আমিও তাই চোখ বুজে পড়ে রইলাম।
বেচারা এতো অপেক্ষা করেছে। অথচ আমিই কিনা ধরা দিই নি। ভাবলাম- ইশঃ কি বোকা আমি! স্বর্গীয় এই স্পর্শের আনন্দ থেকে নিজেকে বঞ্চিত করলাম আমি? কি লাভ হলো? নিজেকে বঞ্চিত করলাম। দর্পণকেও বঞ্চিত করলাম।
রূপ রস গন্ধ আর স্পর্শ ছাড়া, মানুষের জীবনে সত্যিকারের আনন্দের আর কিছু নেই। অর্থের মোহ আছে, কিন্তু তার রূপ রস গন্ধ স্পর্শ নেই। খ্যাতির মোহ আছে, কিন্তু তার রূপ রস গন্ধ স্পর্শ নেই। অট্টালিকার মোহ আছে, কিন্তু তার রূপ রস গন্ধ স্পর্শ নেই। তবুও আমি অর্থ আর খ্যাতির পিছনে ছুটছি কেন? কেন আমি রাত জেগে কম্পিউটার প্রোগ্রাম লিখি। কেন আমি দিনরাত কাজ কাজ- এই নিয়ে মেতে আছি। আমি কি বোকা! তাই না?
চোখ মেলে আবার আমি, ওর মুখের দিকে চেয়ে থাকলাম। আবার আমি ওকে ছুঁতে থাকলাম। ওর মুখ চোখ কপাল গাল চিবুক। তারপর আরও একবার গভীর ভাবে অনুভব করলাম, ওর নরম বুক আমার বুক ছুঁয়ে। এই স্পর্শ উষ্ণ আর কোমল। আহাঃ। কি সুখ। কি তৃপ্তিদায়ক অনুভূতি!
এবার আমি ওর বুকের পাহাড়দ্বয় হাত দিয়ে ছুঁলাম। ওর নগ্ন পিঠ হাত দিয়ে ছুলাম। ওর নগ্ন নাভি হাত দিয়ে ছুঁলাম। সত্যিই এগুলো ফুলের পাপড়ির চেয়েও কোমল আর সুন্দর। মনুষ্য দেহেও এতো সৌন্দর্য্য আর কোমলতা লুকিয়ে?
ভাবলাম নারী দেহ সত্যিই এক ফুল। শুধু দেহ কেন? নারীর সবকিছুই ফুলের মতো। নারীর কণ্ঠ ফুলের মতো মিষ্টি আর কোমল। নারীর আলিঙ্গন ফুলের আলিঙ্গনের মতো মিষ্টি আর কোমল। নারীর ভালোবাসা ফুলের সুগন্ধের মতোই সুগন্ধময়।
অনুশোচনা হলো আবার। কি দরকার ছিলো দর্পণের কাছ থেকে এতদিন পালিয়ে পালিয়ে বেড়ানোর? কি দরকার ছিলো এতো খুঁজে বেড়ানোর? ঘরের উঠোনেই যদি স্বর্গ, তো অমৃতের কলস খুঁজতে এতো দেশ বিদেশ ঘুড়ে বেড়ানোর দরকার কি ছিলো আমার? আমি কি সাংঘাতিক বোকা। তাই না?
সেই মুহূর্তে নীচ থেকে দিদির গলা ভেসে এলো-
ভাই, উঠলি তোরা?
আমি কোন সাড়া দিলাম না। কেবল দর্পণের কপাল আলতো করে ছুঁয়ে বললাম-
শুনছো, দিদি ডাকছে?
দর্পণ সাড়া দিলো-
"হুঁ।'
দর্পণ যে মৃদু এই ডাক শুনতে পাবে তা আশা করি নি। তাই বললাম-
তুমি ঘুমোও নি?
দর্পণ মৃদু অথচ আদুরে গলায় বললো-
"একটু একটু ঘুমোচ্ছি।"
মানে?
"মন চাইছে উঠতে। কিন্তু হৃদয় চাইছে না।"
এই বলে আবার, ও আমাকে দুবাহু দিয়ে আবার চেপে ধরলো।
উঠবে না?
আবার ও, ছোট্ট মেয়ের মতো আদুরে গলায় বললো-
"ইচ্ছে করছে না যে।"
এবার কিন্তু ওরা উপরে এসে ডাকাডাকি করবে।
এতক্ষণে ওর একটু চেতনা হলো। আমার বুক থেকে উঠতে গিয়ে ও বুঝতে পারলো ওর দেহের ঊর্ধ্বাংশ এক্কেবারে নগ্ন। ও তড়িঘড়ি করে, হাতের কাছ কিছু না পেয়ে, আমার ছেঁড়া জামাটাই ওর বুকে চেপে ধরলো। আমি হাসলাম। দর্পণও।
ওর বুকের উপর আমার ছেঁড়া জামা, অদ্ভুত লাগছে ওকে! আমার দিকে চেয়ে রইলো ও। আমিও ওর দিকে চেয়ে রইলাম। ও এবার আমার দিকে চেয়ে অভিযোগের সুরে জিজ্ঞেস করলো-
এইভাবে শুয়ে রয়েছি, আমায় জাগিয়ে দাও নি কেন?
আমি বললাম
ফুলের স্পর্শ পরিত্যাগ করবো
এতো কি নিষ্ঠুর আমি?
স্বর্গের অমৃত উপেক্ষা করবো
এতো কি মূর্খ আমি?
গোলাপ সুগন্ধ অবজ্ঞা করবো
এতো কি অচেতন আমি?
দর্পণ এবার আমার ছেঁড়া জামার আবরণ ছুঁড়ে দিয়ে, আমার কাছে এসে কাছে আমাকে জড়িয়ে ধরলো। বললো-
"তুমি খুঁজে পেয়েছো তোমাকে। আমিও আমাকে। আমাদের নগ্নতাই ভালো"
© অরুণ মাজী
Bu şiiri puanla
Henüz puan verilmemiş