প্রেমিক অথবা যোদ্ধা?
A
0
Altın Yaprak
চুল না পাকলে বুদ্ধি গজায় না।
মায়ের পেট থেকেই আমি প্রেমিক হয়ে জন্মেছি। যখন ছোট ছিলাম- আমার দই মুড়ির বাটিটা, পোষা বিড়ালের মুখে ধরতাম আমি। আমার মা তো রেগে-কেঁদে এক্কেবারে কাতর- 'হায় হায় কি হবে গো! বিড়ালের 'লালা' লেগে থাকা বাটি থেকে, ছেলে আমার মুড়ি খেয়েছে! মা যখন কাঁদছে, আমি তখন দন্তবিকশিত করে, ফিকফিক হাসছি।
নাহঃ জলাতঙ্কে আমি মরি নি। গোঁফে তা দিতে দিতে, দিব্যি বেঁচে আছি আমি। এখন আমার গোঁফ আর দাড়ির চুলে, একটা আধটা সাদা সাদা রেখা ফুটেছে। চুলে এখনো তেমন কিছু ঘটে নি, তবে খুব বেশি দেরী বোধহয় নেই! যাক গে, এতদিনে তাহলে পাকতে শুরু করেছি আমি!
শেষ দুই দশক ধরে প্রেম আর দয়া গুণকে পূজা করার পর, আজ বুঝতে পারছি- নিতান্ত মূর্খ ছিলাম আমি। কেন?
প্রেম বা দয়া গুণ, অবশ্যই মহান গুণ। প্রেম বা দয়া গুণ পারে, এই পৃথিবীকে সুন্দর করতে। কিন্তু কেবল দয়া বা প্রেম গুণে, পৃথিবীতে অন্যায় কেবল বাড়বে।
পৃথিবীতে মানুষের চামড়া পরা, নেকড়ের অভাব নেই। তাদেরকে তুমি যতই দয়া বা প্রেমের দুধ ভাত খেতে দাও, তা তাদের মুখে রুচবে না। তাদের নজর কেবল তোমার হৃৎপিণ্ডের মাংসে। তুমি দেখালে দয়া, কিন্তু সেই নেকড়ে- তোমারই হৃৎপিণ্ড খেয়ে ফেললো। ধরো- এইভাবে তোমার মতো সমস্ত প্রেমিক আর দয়ালু মানুষ মারা গেলো। তাহলে বেঁচে রইলো কারা? কেবল নেকড়েগুলো। নেকড়েময় সেই পৃথিবী কি, আজকের পৃথিবীর থেকে বেশি হিংস্র হবে না?
ভাবো, আবার ভাবো। তুমি দয়া আর প্রেম দিয়ে, সুন্দর পৃথিবী গড়তে চাইছিলে। কিন্তু বাস্তবে তুমি কি পেলে? পেলে- নেকড়েময় এক হিংস্র পৃথিবী। তুমি মানবজাতির লাভ করলে অথবা বেশি ক্ষতি করলে?
তাহলে কি দেখতে পাচ্ছো তুমি? কেবল দয়া আর ক্ষমা গুণ দিয়ে, তুমি পৃথিবীর কল্যাণ করতে পারবে না। তোমাকে নেকড়ে দমন করার জন্য, অস্ত্র ধরতেও হবে। এই পৃথিবীকে তুমি যদি সত্যি সুন্দর করতে চাও, তাহলে তোমাকে একহাতে গোলাপ ধরতে হবে। আর অন্য হাতে তোমাকে কুড়ুল ধরতে হবে।
কিন্তু পৃথিবীর মঙ্গলের জন্য, কুড়ুল ধরতে কে পারবে? যে ত্যাগী আর সাহসী। যে পৃথিবীর মানুষকে হৃদয় দিয়ে ভালোবাসে। তাহলে দেখতে পাচ্ছো- 'সাহস' 'ত্যাগ' আর 'প্রেম' শব্দ তিনটে কেমন পরস্পর যুক্ত। তোমরা জানো, শেষ তিন বছর ধরে আমি চীৎকার করে বলছি- যারা প্রেমিক তারাই কেবল বিপ্লবী হয়, আর যারা বিপ্লবী তারাই কেবল প্রেমিক হয়।
উদাহরণ চাও? সুভাষ বসু, রাসবিহারী বসু, মাতঙ্গিনী হাজরা, ক্ষুদিরাম বসু, ভগৎ সিং ইত্যাদি। এরা সবাই খুবই উচ্চমানের প্রেমিক। এরা সবাই খুবই উচ্চমানের বিপ্লবী। এরা সবাই দেবতা সদৃশ মানুষ।
প্রেম শব্দটা এমন এক নিরাপদ লুকানোর জায়গা, যেখানে দুর্বৃত্তরা বেশি লুকিয়ে থাকে। তারা তাদের গায়ের উপর প্রেমের নামাবলী চড়িয়ে, রাতের অন্ধকারে মানুষের রক্ত পান করে। আজকের শিক্ষিত বুদ্ধিজীবী সমাজ সবচেয়ে বেশি দ্বিচারী। এরা ঘোমটার নীচে খ্যামটা নাচে। এরা মুখে প্রেম, দয়া আর মানবতার কথা বলে, কিন্তু এরাই বেশি লোভী আর স্বার্থপর।
এরা নিজের মাকে ভাত দেয় না। কিন্তু প্রতিবেশীর মায়ের জন্য অনশন করে।
এরা নিজের ভাইকে এক ইঞ্চি জমি ছাড়ে না। কিন্তু সোমালিয়ার মানুষের জন্য এরা জর্জ বুশের কুশপুত্তলিকা দহন করে।
এরা নিজের আপন বোনকে ধর্ষণ থেকে রক্ষা করতে পারে না; কিন্তু কারাগারে, ধর্ষকদের মানবাধিকার লঙ্ঘন কেন হচ্ছে তাই নিয়ে এরা লড়াই করে।
এরা কার্গিল যুদ্ধে নিহত, ক্যাপ্টেন সৌরভ কালিয়ার শতছিন্ন দেহ দেখতে পায় না,
কিন্তু কাশ্মীরে কেন উগ্রপন্থীদের নখ ভাঙলো; তাই নিয়ে এরা মানবাধিকার কমিশনে নালিশ করে।
মানবতা আর প্রেম শব্দের আড়ালে লুকিয়ে, এরা নিজেদেরকে বিশাল একটা 'হনু' বানানোর চেষ্টা করে। অথচ খোঁজ নিয়ে দেখো- এদের বাবা মা হয়তো, বৃদ্ধাশ্রমে অনাহারে কাঁদছে।
নাহঃ মহান হতে আমি চাই না। আমি প্রেমিক ঠিকই। তবে আমার দেশের মানুষের জন্য আমি কার্গিল যুদ্ধেও যেমন অস্ত্র ধরেছি। তেমনি আবার আমি তা ধরবো। আমার একটাই ধর্ম- আগে আমার মা, আগে আমার দেশের মানুষ, আগে আমার ভারতভূমি। জয় হিন্দ।
Bu şiiri puanla
Henüz puan verilmemiş