উত্তরণের পথে ১ ক (Amal Trishna)

A Arun Maji Arun Maji
0 Altın Yaprak
তৃষ্ণা অমল কাহিনী অবলম্বনে অরুণ মাজীর অবিশ্বাস্য এক উপন্যাস ------------------------------ ধুস, খিদে যে কেন পায়! ঘুড়ি উড়াচ্ছি আমি, আর এখন কিনা খিদে? খিদেটা বড্ড পাজি। যখন তখন জ্বালায় আমাকে। ঠাম্মাকে বলে দেবো, ঠাম্মা ওর কান মুলে দেবে! জোরে জোরে কান মুলে দেবে। আমার সাথে দুষ্টুমি? ব্যাটা জানে না, আমার এক ঠাম্মা আছে। পেটটা ব্যথা করছে কেন? ঠিক ব্যাটা খিদে। আবার জ্বালাচ্ছে আমাকে। এমন দুষ্টু, ও সবসময় জ্বালায় আমাকে। দিনরাত সুড়সুড়ি দেয় আমাকে। পেটের মধ্যে কাতুকুতু দেয় আমাকে। ইশঃ খিদে যদি না থাকতো, তো সারাদিন ঘুড়ি উড়াতাম আমি! কি মজা হতো। তাই না? বিকেল পর্যন্ত ঘুড়ি উড়াতাম। সন্ধ্যে পর্যন্ত উড়াতাম। রাত পর্যন্ত উড়াতাম। তারপর একটুখানি ঘুমিয়ে, আবার ভোর বেলা উঠে, ঘুড়ি লাটাই নিয়ে বেরিয়ে পড়তাম। আচ্ছা মানুষের এতো খিদে পায় কেন? খিদে না থাকলে, মানুষের চলতো না? খিদে না থাকলে, কি হতো মানুষের? আকাশ আর মাটির কি মজা! ওদের খিদেও নেই, আর ঘরে ফেরার তাগিদও নেই। কাকু বলে, সে যখন ছোট ছিলো, এই মাঠে সে, মাসের পর মাস ঘুড়ি উড়িয়েছে। বছরের পর বছর ঘুড়ি উড়িয়েছে। দিন রাত ঘুড়ি উড়িয়েছে। ইশঃ কাকুর কি মজা ছিলো! তাই না? অথচ এখন? আমি কেবল এক-দু মাস ঘুড়ি উড়াতে পারি। এক দু মাস পর, মাঠে চাষ শুরু হয় আবার। মাঠে চাষ শুরু হলে কি আর, ঘুড়ি উড়ানো যায়? নাহঃ যায় না। চারিদিকে তখন জল আর কাদা। অবশ্য ইচ্ছে যে করে না, তা নয়। কিন্তু কি আর করা যাবে! এই পাখি দেখ দেখ, ঘুড়িটা আমার কত উঁচুতে চলে গেছে। অনেক উঁচুতে! তাই না? এই ফড়িং দেখ দেখ, ঘুড়িটা আমার এক্কেবারে আকাশের গায়ে ঠেকে গেছে। ঊহঃ ঘুড়িটার কি মজা! আকাশে উড়তে পারে ও। তাই তো আনন্দে, এতো লেজ নাড়ে ও। ইশঃ আমি যদি ঘুড়ি হতাম, তো দারুন মজা হতো। আমিও ঘুড়ির মতো লেজ নেড়ে নেড়ে মজা করতাম। কিন্তু আমার যে লেজ নেই! ধুস, কেন যে নেই! নেই তো কি? দড়ি দিয়ে বানিয়ে নিলেই হলো। লেজ তো আমি, এক মিনিটে বানাতে পারি। চাইলে এখুনি পারি। এই গাছ দেখ দেখ, ঘুড়িটা আমার এক্কেবারে সূর্যের কাছে পৌঁছে গেছে। আমি যদি ঘুড়ি হতাম, তো এক্কেবারে সূর্য্যি মামার কাছে পৌঁছে যেতাম। মামা যে কি খুশি হতো! আচ্ছা, সূর্যি মামার ঘর আছে? বিছানা আছে? পুকুর আছে? মামার ঘরে, লাল্টু পুটুর মতো, বাচ্চা বাচ্চা ছেলে মেয়ে আছে? নিশ্চয় আছে। সবার ঘরেই ছেলে মেয়ে আছে। হাবলুদের ঘরে আছে। রাজুদের ঘরে আছে। মায়ের বন্ধু চৈতি কাকীমা, তাদের বাড়িতেও ছেলে মেয়ে আছে। তবে সূর্যি মামার ঘরে কোন ছেলে মেয়ে দেখি না কেন? ইশঃ ঘুড়ি হয়ে যদি মামার কাছে যেতে পারতাম, তো সবকিছু দেখতে পেতাম। তাই না? হয়তো দেখতাম, মামার ঘরে, আমাদের ঘরের মতো, খড় আর টিনের ছাউনি আছে। মাটির দালান আছে। চাঁপা ফুলের গাছ আছে। বাড়ির পিছনে, হয়তো একটা পুকুরও আছে। পুকুরে হয়তো, রুই কাতলা মাছও আছে। ঠাম্মা বলে, সে যখন ছোট ছিলো, তখন সে চাঁদে গেছিলো। চাঁদে নাকি অনেক মজা! অনেক বড় বড় পুকুর, আর বড় বড় মাছ। চাঁদে যে বুড়িটা থাকে; সে শুধু চরকা কাটে, আর বঁড়শি নিয়ে মাছ ধরে। ইশঃ চরকা বুড়ীর কি মজা, তাই না? তোমরা কি জানো? আমার ঠাম্মা, চরকা বুড়ীর সাথে কত কত মাছ ধরেছে। ইয়া বড় বড় মাছ। দশ হাত লম্বা। কুড়ি হাত লম্বা। একশো হাত লম্বা। তালগাছের মতো লম্বা। ফুটবল মাঠের মতো লম্বা। ইশঃ আমিও যদি, এমন লম্বা লম্বা মাছ ধরতে পারতাম! ঠাম্মা বলে, পৃথিবীর মাছগুলো, আকাশের মাছগুলোর তুলনায় কিছুই নয়। চাঁদের মাছগুলো নাকি বাতাস খায়। তাই তারা হুহু করে বাড়তে থাকে। ইশঃ আমিও যদি বাতাস খেতে পারতাম, তো হুহু করে বড় হয়ে যেতাম আমি। আমগাছের মতো বড় হয়ে যেতাম। পাহাড়ের মতো বড় হয়ে যেতাম। পাহাড়ের মতো বড় হয়ে, আকাশ ছুঁয়ে দিতাম আমি। পাহাড়ের মতো বড় হতে পারলে, খুব মজা হতো। তাই না? আকাশটা এক্কেবারে হাতের মুঠোয়। মেঘটা এক্কেবারে গা ঘেঁষে।

Bu şiire çeviri ekle ·

Bu şiiri puanla

Henüz puan verilmemiş

Yıldıza dokunarak 1–10 arası puan ver

Yorumlar

Yorum yapmak için giriş yapmalısın.

Giriş yap

Bu şiire henüz yorum yapılmamış. İlk sen ol.

Sana daha iyi bir okuma deneyimi sunabilmek için sitemizde çerez kullanıyoruz. Kişisel verilerin KVKK ve GDPR kapsamında işlenir; hangi çerezlere izin verdiğini dilediğin zaman değiştirebilirsin.