দেহখানা
M
0
Altın Yaprak
এ দেহটি কী?
মূল - অর্ক প্রভু মুখার্জী
ভাষান্তর ও ব্যাখ্যামূলক ভাবান্তর -মাহতাব বাঙ্গালী
এ দেহটি কী?
এটি শুধুমাত্র আত্মার পোশাক
এ ব্যথাটি কী?
এটি শুধুমাত্র প্রেমের অবিরত অনুসন্ধান
যা আমার আদিসত্ত্বার বিনাশ ঘটায়
এ প্রেমানুভুতির সূক্ষ বেগগুলি
আমার সকল পথ ধীরে ধীরে বন্ধ করে দেয়
তোমার সে সুশীতল সমীরণ স্পর্শই-বা কী
যা আমার জীবাত্মার ধ্বংস সাধন করেছে?
তোমার সে দেয়া শাস্তিই-বা কী
যা আমার সকল প্রেম বিশ্বাসকে অবিশ্বাসী বানিয়েছে?
হ্যাঁ তুমিই আমায় করেছো বিভক্ত সে আত্মার সংযোগে
এ জীবনে এভাবে; বলো -
তোমায় খোঁজার তরে আমার কোথায় কোথায় ব্রজ করা উচিত?
তোমার প্রত্যাশাই-বা কী
যা আমার জীবনাত্মার সংহার করেছে?
তোমার সে দেয়া শাস্তিই-বা কী
যা আমার সকল প্রেম বিশ্বাসকে অবিশ্বাসী বানিয়েছে?
হ্যাঁ তুমিই আমায় করেছো বিভক্ত সে আত্মার সংযোগে
এ জীবনে এভাবে; বলো -
তোমায় খোঁজার তরে আমার কোথায় কোথায় ব্রজ করা উচিত?
(বলো কোথায় খুঁজবো তোমায় - প্রতিউত্তরে: হ্যাঁ খুঁজো আমায়)
সেখানেই যেখানে তুমিই আমার আত্মার পোশাক
সেখানেই যেখানে শুধু তুমিই আমার সন্ধানে থাকো
সেখানেই যেখানে আমার সকল প্রত্যাশা তোমাতেই শেষ হয়
সেখানেই শুরু হয় আর যেখানে আমার জীবনের তিরোধান হয়
*****
(আমি জানি না শ্রদ্ধাষ্পদ অর্ক প্রভু মুখার্জী আমার এই ব্যাখ্যামূলক লিখাটি কীভাবে লইবেন। তবে আমার কাছে গানটি একান্তই দেহত্ববাদী গান বলে মনে হইয়াছে। আমি মহামহিম মহাত্মা গুরু ফকির লালন সাঁইজির গানের ভক্ত হেতু গানটিকে লইয়া আমার মতো করিয়াই ভাবিয়াছি। ভ্রান্তি প্রলাপে ক্ষমা প্রার্থনা।)
ব্যাখ্যামূলক- মাহতাব বাঙ্গালী
প্রশ্ন করিয়া দ্যাখো আপন মনের গহীনের পাঠশালায়
"এই দেহখানা কী?
উত্তর হয়তো আসিবে ভিন্ন ভিন্ন স্বরে
জানিয়ে লইতে হইবে নিজ জ্ঞানে স্বজ্ঞার আনুকূল্যে
"ইহা নিছক পোষাক-পরিচ্ছদ সেই নিরাকার ইন্দ্রিয়াতীত অমরাত্মার সনে"
"ওই পোশাক খুলিয়া দ্যাখো তুমি শুধুই নিগূঢ় সত্য অস্তিত্বের রেণু"
প্রশ্নবাণে দগ্ধ্ বর্ণে আবার ভাসিবে
"এই হৃদয়ান্দরের ব্যথাখানা কী"
উত্তরের ভূমিকায় দাঁড়াইবে শিয়রে
"ইহা ঐ প্রেমমোহের তীব্র অনুভূতি
যাহা জাত-কুলের নাম নির্মূল করিয়া তোলে,
যাহার আকাঙ্খার বেগ ধীরে ধীরে বিনাশ সাধন করে"
মনের মন্দিরে বাজিয়া উঠিবে
"কীই-বা তোমার কোমল শ্বাস
যাহার অম্লান স্পর্শে মন্ত্রমুগধ হইয়া পড়িয়াছি এই আমি,
যাহা আমার পার্থিব আত্মাকে অস্থির করিয়া তোলে"
"শাস্তির বিধানেই-বা কোন দণ্ড দিয়াছো আমায়
যাহার আজ্ঞা বহে আমার প্রেম বিশ্বাসখানা
আজ অবিশ্বাসীর কাঠগড়ায় দাঁড়াইয়াছে,
যাহা বিরহ ব্যথায় এই পার্থিব সংসারের উল্লাসী ব্যঞ্জনা হইতে
আমায় সমূলে সন্ন্যাসী বানাইয়াছে"
জিজ্ঞাসা করিয়া দ্যাখো আপন প্রেম নিবাসে
"তোমায় কোথায় কোথায় খুঁজিব, পাইবো কোথায়? "- বলো হে প্রাণনাথ
মনের মঞ্জিলে পৌঁছার পূর্বে বলো হে অধর নাথ
"তোমারই-বা সন্তুষ্টি কোথায়
যেইখানে এই আমি বিনাশের মন্ত্র সাধন করি
তুমিহীনে এই একাকিত্বের বধ্যমঞ্চে প্রেম লাঞ্চিত প্রতারক মনে হয় নিজেকে
যেইখানে জীবনের দ্বিতীয়রূপেও স্বধর্মত্যাগী করিয়াছো তুমি এই প্রেমবিচ্ছেদী আত্মাকে"
বলো হে অমর স্বয়ম্ভু নাথ- "কোথায় খুঁজিব, কোথায় পাইবো তোমায়? "
সহজ মনের দিব্য শব্দে সিনাই পর্বত জ্বালাইয়া দিয়া
নিগূঢ় রাতের প্রেম বাসরের উর্দ্ধগমনে উত্তর আসিয়াছে
ত্রিবেণীর প্রবল জোয়ারে অধর সাঁইয়ের মধুর মিলনে-
খোঁজ করিয়া দ্যাখো আমায় সেই মৃত্তিকার সুনির্মল পোষাক-পরিচ্ছদে
গুপ্ত আমি বিরাজ করি সেইখানে;
খোঁজ করিয়া দ্যাখো আমায় সেই দগ্ধ্ অদৃশ্য ব্যথায়
যাহার দাগ চির অমোচনীয় হইয়া জাত-কুল হারিয়েছে;
খোঁজ করিয়া দ্যাখো আমায় যেইখানে তোমার
তীব্র প্রেম মিলনের আকাঙ্খা শেষ হইয়াছে;
আর অবিরত সন্ধান সেইখানে শুরু করো
যেইখানে তোমার সকল কাম-মায়া-মোহের নির্বাণ ঘটিয়াছে
সেই পরিচ্ছদের প্রত্যেক সুচিকর্মে।"
-চট্টগ্রাম
Bu şiiri puanla
Henüz puan verilmemiş